নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় বিএনপির এক নেতাকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নেত্রকোণার কেন্দুয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় বিএনপির এক নেতাকে দলীয় সব পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় আবু মিয়া (৩৬) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুল কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাবেক সহযুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি মামলার প্রধান আসামি এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার আবু মিয়াকে পৌর শহরের সাউদপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।বুধবার রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন খান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে তাকে ধর্ষণের সময় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে ধর্ষণ করা হয়। ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে এবং চলতি বছরেও তাকে একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ আগস্ট একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি পরিবারের নজরে আসে। পরে গত ১৮ আগস্ট একটি বেসরকারি ক্লিনিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। এরপর তার বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে কেন্দুয়া থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামি আবু মিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।